মানুষ হবে কবে?
মানুষ হবে কবে?
সাত কোটি বাঙালিরে হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালি করে, মানুষ করনি!
এই পঙ্ক্তি যেন বাঙালি জাতির গভীর ক্ষত তুলে ধরে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কি আদৌ মানুষ তৈরি করে, নাকি শিক্ষার আড়ালে প্রশিক্ষণ হয় বোধহীন প্রাণীদের? বারবার এই প্রশ্নের মুখোমুখি হই যখন দেখি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহপাঠীর হাতে সহপাঠীর নির্মম মৃত্যু।
'আবরার' এর নির্মম হত্যাকাণ্ড এখনো মানুষের মনে তাজা। তাঁর মৃত্যু যেমন মানুষকে ব্যথিত করেছে, তেমনি ভাবিয়েছে—এই বিদ্যাপিঠ কি আদৌ কলঙ্কমুক্ত হতে পারবে? যারা আবরারকে প্রাণে মেরেছিলো, তারা হয়তো শাস্তি পাবে, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়, কেন শিক্ষার ছায়ায় এমন নির্দয়তা জন্ম নেয়? ।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু নির্মম হত্যাকাণ্ড, বিশেষ করে তোফাজ্জল হত্যার ঘটনা, আমাদের এই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তোফাজ্জল—একজন নিরীহ মানুষ, যার জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে হয়তো জানা ছিল না যে তার সামনে অপেক্ষা করছে এক নির্মম বিদায়। খাবার খাওয়ার সময় তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, খাবার কেমন হয়েছে? তিনি মাথা নেড়ে বলেছিলেন, "ভালো।" হয়তো তিনিও জানতেন না, এই ছিল তার জীবনের শেষ 'ভালো' শব্দটি।
দেশের সরকার ও প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি প্রকৃত অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা, যাতে সমাজে এমন কলঙ্ক আর না ঘটে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক, এবং মানুষ হোক মানুষের মতো।
কবে মানুষ মানুষ হবে? শিক্ষা, সংস্কৃতি, এবং মানবিকতা কবে আমাদের জাতিকে সত্যিকারের মানুষ বানাবে?
কবি ইমতিয়াজ মাহমুদের সেই কথাটা যেন মনের মধ্যে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে—"মানুষের মৃত্যুতে যদি আপনার অনুভূতি না হয়, তাহলে ভেবে নিবেন আপনিও মারা গেছেন।" আমরা কি বেঁচে আছি? আমরা কি মানুষ হতে পেরেছি?
মানুষ হওয়া মানে কেবল জীবিত থাকা নয়। মানুষ হওয়া মানে মানবিক হওয়া, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার থাকা। তোফাজ্জলের মতো আরও অনেক নিরীহ প্রাণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা—এই দায়বদ্ধতা ভুলে গেলে আমরা কি আর মানুষ বলে পরিচয় দিতে পারব?
লেখা — আরিফুল ইসলাম জিদান

Comments
Post a Comment